বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চেতনানাশক খাইয়ে পরপর হিন্দু বাড়িতে ঘটছে লুটের ঘটনা
এনামুল হক, গাইবান্ধা প্রতিনিধি / ১৩৭ ভিউ
সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কয়েকটি হিন্দু পরিবারের সদস্যদের চেতনানাশক খাইয়ে বাড়িতে থাকা নগদ টাকাসহ মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গত এক মাসে অন্তত্ব ১০টি বাড়িতে ঘটেছে এমন ঘটনা। এমন অবস্থায় ভয় আতঙ্ক আর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এলাকার মানুষ। যদিও এমন ঘটনা রোধ করা ও সংঘবদ্ধ চক্রটিকে আইনের আওতায় আনাসহ তৎপরতার কথা জানিয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসন।

সরেজমিনে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার জরমনদি গ্রামে গিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই ঘুমে অচেতন হয়ে পড়েন উত্তম কুমার লস্করের পরিবারের সদস্যরা। উত্তম কুমার ও তার ভাই সুকেন্দু কুমার জানান, বিকেলে কে বা কাহারা গোপনে বাড়িতে ঢুকে টিউবওয়েলের পানিতে দিয়ে যায় চেতনা জাতীয় দ্রব্য। সন্ধ্যার পর ওই পানি পান করার পরেই স্ত্রীসহ বাড়ির সকলে ঘুমিয়ে পড়েন। টানা একদিন পুরো ঘুমেই কাটিয়ে দেন তারা। তবে প্রতিবেশিসহ স্থানীয়দের মাঝে ঘটনা জানাজানি হওয়ায় শারীরিক অসুস্থতা ছাড়া কারো কোন ক্ষতি হয়নি।

শুধু উত্তম কুমারের বাড়িই নয়। ঈদের আগেও একই গ্রামের রতন কুমার, সুজন চন্দ্র ও দিলীপ কুমারের বাড়িতেও ঘটেছে এমন ঘটনা। ভুক্তভোগীদের দাবি, টিউবওয়েলের পানি ও খাবার লবণে অজ্ঞান পার্টি কিংবা দুস্কৃতি চক্রের সদস্যদের কেউ কৌশলে চেতনানাশক মিশে যায়। পরে ওই পানি ও লবনের তরকারি খাওয়ায় রাত না হতেই গভীর ঘুমিয়ে পড়েন পরিবারের লোকজন। এ সুযোগে চক্রটি রাতের বেলা বাড়িতে ঢুকে নগদ টাকা, স্বার্ণালংকার ও মালামাল লুটের তৎপরতা চালায়। ঘটনার প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগীর কেউ কেউ।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, গত এক মাসের ব্যবধানে জরমনদি ছাড়াও পাশ্ববর্তী নিজাম খাঁ, কালির খামার, ফলগাছা ও ছাইতানতলাসহ কয়েকটি গ্রামের অন্তত ১০টি হিন্দু পরিবারেে বাড়িতে ঘটেছে এমন ঘটনাও। সংঘবদ্ধ চক্রটি কখনো টিউবয়েল আবারও কখনো খাবার লবণে মিশিয়ে দিচ্ছে চেতনানাশক। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাড়িতে এমন কায়দায় চক্রটি ঢুকে নগদ অর্থসহ মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। তবে এসব ঘটনা এলাকার শুধু হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে ঘটায় ভয় আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে। এছাড়া এমন ঘটনায় গ্রামের অধিকাংশ হিন্দু পরিবারের মানুষ এখন অনেকটাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এদিকে, সংঘবদ্ধ চক্রটির এমন কর্মকাণ্ড জানা আছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনের। ঘটনা প্রতিরোধে ইউনিয়নজুড়ে গ্রাম পুলিশের তৎপরতার কথা জানিয়েছেন দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কবীর মুকুল। আর ঘটনাগুলো অনুসন্ধানে সাত সদস্যর পুলিশের টিম গঠনসহ চক্রটি চিহ্নিত ও তাদের গ্রেফতারের কথা জানিয়েছেন সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল্লাহিল জামান।

শুধু পদক্ষেপ আর তৎপরতার আশ্বাসেই নয়; মানুষের জানমাল রক্ষায় দ্রুত সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
জনপ্রিয়
সর্বশেষ