বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন

বিএফএফ এর উদ্যোগে বিনামূল্যে চোখের আলো ফিরে পেলো ওরা চল্লিশজন’
লিটন সরকার বাদল, / ১৬২ ভিউ
সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২

কারো বয়স পঞ্চাশ কারো ষাটোর্ধ। কালো চশমা চোখে গাড়ী থেকে নামছে। আজ তাঁরা বেশ আনন্দিত। কয়েকদিন পূর্বেও তাদের মনখারাপ হতো। একটু দূরের কোন বস্তুই ঠিক মতো দেখতে পেতো না। কারন, চোখে ছানি পরেছে। প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা। অনেকের আবার এমন সামথ্যই নেই। তাই বলে কী চিকিৎসা সেবা পাবে না। এমনটা হতেই পারে না। সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন (বিএফএফ)’র উদ্যোগে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেসন শেষে আজ বাড়ী ফিরলো ৪০ জন নারী পুরুষ। সংগঠনটির ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার প্রতিবছরের মতো এবারও আয়োজন করা হয় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবার। গেলো রোববার উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ সরকারী উপ-স্বাস্থ কেন্দ্রের চত্বরে এসেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন কয়কেশতাধীক রোগীকে সাধারণ সেবা দানের পর ৪০জন রোগীকে ছানি অপারেশনের জন্য চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি ও চক্ষু হাসপাতাল কুমিল্লা এবং ফ্রেড হোলস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আজ অপারেশন সফল হওয়া ৪০ রোগীকে তাঁদের বাড়িতে পৌছে বিএফএফ-এর স্বেচ্ছাসেবকরা। উপকার ভোগী লোকজন যাঁরা আগে চোখে কম দেখতো বা কেউ দেখতোই না তাঁরা চিকিৎসা সেবা পেয়ে আজ সুস্থ। সেবা কাজে উপস্থিত ছিলো, মুফতী নূর হোসাইন, উদ্যোক্তা হাজী আলী আহমেদ মিয়াজী, প্রোগ্রাম অফিসার বিপ্লব কুমার দে, প্রোগ্রামটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক এস এম মিজান। জানা যায়, বিগত একযুগে প্রায় পনেরো হাজার চক্ষু রোগীকে দিয়েছে চোখের যাবতীয় চিকিৎসাসেবা। করোনা মহামারীতে কয়েক মাস বন্ধ ছিলো এই সেবা কার্যক্রম।বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের এই মানবিক সেবা কাজে সহযোগিতা করে আসছে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি ও চক্ষু হাসপাতাল কুমিল্লা এবং ফ্রেড হোলস ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এস এম মিজান বলেন আমরা সারাদেশে কাজ করছি পরিবেশ বিপর্যয় রোধে, বৃহত্তর কুমিল্লা জেলাঞ্চলে কাজ করছি পরিবেশের পাশাপাশি চোক্ষু রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে। ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা অধ্যাপক মতিন সৈকত বলেন, বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন সতেরো বছরের পথপরিক্রমায় পরিবেশ শিক্ষা ও চোখের সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে।যা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ক্ষেত্রে উচ্চতর পযার্য়ের ভূমিকা পালন করে আসছে। এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট আলোকচিত্রী মাজেদ চৌধুরী জানান, এমন মানবহিতৈষী কাজে আত্মনিয়োগ করতে পেরে আমরা গর্বিত, আমরা সকলে মিলে মিশে মানুষের জন্য দেশের কল্যাণে একসাথে কাজ করতে চাই। দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণরা একত্রিত হয়ে নিজ গ্রাম ও সমাজের উন্নয়নে এগিয়ে আসলে যেমন উপকৃত হতো সাধারণ মানুষ, তেমনি উপকৃত হতো রাষ্ট্র। তাঁরই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন নামের সংগঠনটি এবং এর সাথে সম্পৃক্ত মহৎকর্মের স্বেচ্ছাসেবকরা।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
জনপ্রিয়
সর্বশেষ