বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন

বিলুপ্তির পথে আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য মার্বেল খেলা
মেহেদী হাসান রিপন,বাঘারপাড়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ / ১৬৬ ভিউ
সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২

স্কুল ফাঁকি দিয়ে খেলাধূলা সেই হারানো ধুলোমাখা দিন, বুকের ভেতর আজো রঙিন শৈশব ডাকে শুধু আয়, আয়, আয়। নাগরিক কোলাহলে সবাই কুড়িয়ে তোলে শৈশব। সার্বিকভাবে দুরন্তপনা শৈশবের সঙ্গে আজ হারাতে বসেছে আবহমান গ্রামবাংলার মার্বেল খেলা। এক সময় গ্রামীণ লোকসমাজের শিশুরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করে সময় কাটাতো। পুরো শৈশবজুড়েই থাকতো দুরন্তপনা। তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলীন হতে বসেছে মার্বেল খেলা। চার দেয়ালের খাঁচায় আটকে যাচ্ছে শৈশব।

শিশুবিদরা বলছেন, গ্রামবাংলার খেলাধুলা যেমন হারিয়ে যাচ্ছে, তার সঙ্গে হারাচ্ছে শিশুদের মেধাবিকাশের উপকরণ। ইউটিউব বা ভিডিও গেমসে আটকে যাচ্ছে শৈশব।

শৈশবের ফেলে আসা খেলাধূলা আজো মনে দোলা দিয়ে যায় সবার প্রাণে। সেসব খেলা যেমন ছিল জনপ্রিয় তেমনি স্মৃতিমধুর।শৈশবের দুরন্তপনা ছিল শারীরিক ও মানসিক বিকাশের মাধ্যম। গ্রামীণ খেলা আমাদের আদি ক্রীড়া সংস্কৃতি। এক সময় গ্রামীণ খেলাধুলা আমাদের সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করতো। গ্রামীণ খেলা বিলুপ্ত হতে হতে আজ তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াই কঠিন।

স্কুল ফাঁকি দিয়ে বা বিকেলে রাস্তার পাশে মার্বেল খেলার কথা মনে আছে নিশ্চয়ই? মুঠোভর্তি মার্বেল দাগের বাইরে ছুঁড়ে মেরে, নির্দিষ্ট আরেকটি মার্বেলে লাগানোর সে কী চেষ্টাই না করেছেন এককালে!
আমাদের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বিশেষত শিশু কিশোরদের অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা মার্বেল খেলা।
কিন্তু, কালের পরিক্রমায় আমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলাটি আজ বিলুপ্তির পথে।মার্বেল খেলার জন্য কমপক্ষে দুইজন খেলোয়াড় দরকার হয়।তিন, চার, পাঁচ, বা সাত/ আটজন মিলেও খেলা যায়। পরিষ্কার সমতল ভূমি এই খেলার জন্য উপযোগী।

প্রথমে দুইটি একটি রেখা টানতে হয়। রেখা থেকে চার-পাঁচ হাত দূরে একটি গর্ত করতে হয় যেন একটি মার্বেল সেই গর্তে বসতে পারে। আঞ্চলিক ভাষায় রেখাটিকে ‘ডিসকলি বা জল্লা’(কোথাও ‘জই’ নামে পরিচিত) এবং গর্তটিকে ‘কেপ’ বলে। দাগের বাইরে পা রেখে প্রত্যেকে একটি করে মার্বেল এ গর্তে ফেলার চেষ্টা করে। যার মার্বেল গর্তে পড়ে বা সবচেয়ে কাছে যায় সে প্রথম দান পায়।

সবাই প্রথম যে দান পায় তার হাতে ২/৩/৪টি করে মার্বেল জমা দেয়।সে মার্বেলগুলো ছকের বাইরে বসে সামনের দিকে ওই গর্তের আশপাশে আলতো করে ছড়িয়ে দেয়। এরপর অন্য খেলোয়াড়রা একটা নির্দিষ্ট মার্বেলকে বলে ‘বাদ’। অর্থাৎ ওই মার্বেল ছাড়া বাকি যে কোন একটি মার্বেলকে অন্য একটি মার্বেল ছেড়ে দিয়ে স্পর্শ করতে হবে। যদি এমনটা পারে তাহলে ওই দান সে জিতে যায়। আর না পারলে পরবর্তী জন একইভাবে খেলার সুযোগ পায়।

তবে ‘বাদ’ দেয়া মার্বেল কিংবা অন্য একাধিক মার্বেলকে ছুড়ে দেয়া মার্বেল স্পর্শ করলে ওই খেলোয়াড়কে ফাইন দিতে হয়। এবং দান জেতার জন্য পরবর্তী খেলোয়াড় ফাইন হওয়া মার্বেলসহ সেগুলো ছড়িয়ে দিয়ে খেলতে থাকে।

যে কেউ দান জিতলে আবার পুনরায় খেলা শুরু হয়। এভাবেই চলতে থাকে যতক্ষণ না প্রতিপক্ষ আত্মসমর্পণ করে কিংবা তার কাছের মার্বেল শেষ না হয়ে যায়।আমাদের লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি টিকে রাখা অত্যন্ত জরুরি।তাই,বিলুপ্তপ্রায় খেলাগুলোকে ফিরিয়ে আনা আপনার আমার সকলের দায়িত্ব।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
জনপ্রিয়
সর্বশেষ