শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ০২:২২ অপরাহ্ন

স্বাধীনতার ৫১ বছরের চুকনগর বদ্ধভুমি”
তরুণ মন্ডল ,বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রতিনিধিঃ / ১৯ ভিউ
সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২

১৯৭১ সাল, বাংলাদেশ দেখেছে এক ভায়াল রুপ। বঙ্গবন্ধু ২৬শে মার্চ, স্বাধীনতা ঘোষনার সাথে সাথে বাংলার দামাল ছেলেরা যার যা ছিলো, তাই নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে।

২৫শে মার্চ রাতে দখলদার হানাদার পাকিস্তান সেনাবাহিনী শুধু ঢাকা নয়, সাড়া দেশে এক যোগে ঝাপিয়ে পড়ে নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের উপর, সাড়া দেশ দেখল এক রাখুসে প্রশিক্ষিত বাহিনীর এক ভয়াল রুপ।
বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ প্রতিটি পরিবার ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ছোটাছুটি শুরু করে, একটু নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে।
তাড়ি ধারাবাহিকতায় দক্ষিন অঞ্চলের মানুষ খুলনা জেলার ডুমুড়িয়ার চুকনগরে, ভদ্রা নদীর পাড়ে জমা হতে থাকে। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা ভূতগ্রস্ত মানুষ, এই ভেবে “চুকনগর” হয়ে ভারতে যাওয়ার সহজ পথ এবং ভারত হবে সবচাইতে নিরাপদ স্থান ভেবে চুকনগরে সমাবেত হতে থাকে।
শুধু খুলনা নয়, এ দৃশ্য ছিলো বাংলাদেশের সর্বত, সবাই যে শুধু ভারত গেছে এমন নয়, প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি পরিবার বাংলাদেশের এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ঘুরে বেড়িয়েছে, একটি নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। তখন, শুধু অর্থহীন-অর্থবান, শিক্ষিত -অশিক্ষিত, সরকারি চাকুরে পিয়ন থেকে প্রশাসনের উচ্চ পর্য্যায়ের কর্মকতা, ছোট বড় ব্যাবসায়ী সহ সব পেশার মানুষ তখন ছুটে বেড়িয়েছে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। পথে বহু পরিবারকে এক সাথে হত্যা করা হয়েছে, পুরো বাংলাদেশ তখন, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বধ্যভূমি।
তবে “চুকনগর”প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় এত ব্যাপক বৃহৎ নির্মম নিশংস বধ্য ভূমি থেকে যায় লোক চক্ষুর আরালে। তথন এত প্রচার মাধ্যম বা উন্নত প্রযুক্তি না থাকায় “চুকনগর”থেকে যায় স্বল্প প্রচারে, দেশের বৃহ্যৎ জনগোষ্ঠির আড়ালে যা পৃথিবীর সবচাইতে বড় বধ্যর্ভমি।

পূর্বে কিছু সংগঠন এখানে এসেছে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, গবেষনা হয়েছে, জাতীয় গনমাধ্যমে প্রচার হয়েছে কম। চুকনগর বাংলাদেশের মানুষের এবং নতুন প্রজন্মের কাছে অজানা। ক্ষুদ্র পরিশরে ছিল এর প্রচার, গণহত্যার ব্যপকতা ছিল বিশাল।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মাদ হিলালউদ্দিনের নেতৃত্বে কেবল গড়ে উঠা প্রক্রীয়াধীন সংগঠন “আমার একাত্তর” গত ৩১শে ডিসেম্বরে ভিন্ন আঙ্গিকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যার যার বাড়িতে, এপার্টমেন্টে, পাড়া-মহল্লায়, প্রতিষ্ঠানে, সমাজের সর্বস্তরে ফুল দিয়ে, মিষ্টিমুখ করে বা কেক কেটে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা জানায়।

“আমরা একাত্তর” ২১শে ভাষা সৈনিকদের সম্মামনা দেয়ার কম’সূচিও সফল হয়।

 

উন্নত মেধা সম্পূর্ন নেতৃত্ব “চুকনগর বধ্য ভূমিতে ২০শে মে দেশের মানুষের কাছে, আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যমে তুলে ধরা এবং হাজারও শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন” কর্মসূচি গ্রহন করে।
চুকনগরে বধ্য ভূমি কে দেশের মানুষের কাছে পৌছান ও আন্তর্জাতিক প্রচারে ব্যাপকতা এনে জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ”জেনোসাইড” নিয়ে গবেষনা করা সংগঠনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং UN এর ”জেনোসাইড” হিসাবে স্বীকৃতি আদায়ের দাবিতে এই কর্মসূচী গ্রহন করে, স্বল্প সময়ে তা করা বেশ কষ্টকর ছিলো।
তবু “আমরা একাত্তর” অস্ত্র ধরা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বে, আজকের কর্মসূচী সফল হয়েছে। আমাদের সাথে সার্বক্ষনিক সাথী হয়ে Softnmart যুক্ত ছিল।

 

ICT বিষয়ক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ”Softnmart Limited” এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ইবনুল আজিজের নেতৃত্বে তার নবীন দল অনুষ্ঠান স্থল ও ঢাকা কার্যালয় থেকে তাদের সহযোগীতা কর্মসূচী পালন এবং লাইভে সরাসরি সম্প্রচারে সার্বক্ষনিক সহায়তা দিয়ে গেছে। ”Softnmart” শুধু ব্যবসাকে প্রধান্য না দিয়ে সৌজন্য তার সাথে সমাজিক দ্বায়ীত্ব, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা ধারন করে ”আমরা একাত্তর” – এর বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সহযোগীদের সাথে কাজ করছে।
Softnmart ও গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারায় একাত্তরের মহান মূল্যবোধে মাতৃভূমি বাংলাদেশের বিকাশমান উজ্জ্বল আগামী সুনিশ্চিত করার সাথী হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
জনপ্রিয়
সর্বশেষ