সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০২:৫০ অপরাহ্ন

হারিয়ে যাচ্ছে দেশের একটি মুল্যবান ঐতিহ্য তাঁলগাছ।
মেহেদী হাসান রিপন বাঘারপাড়া প্রতিনিধিঃ- / ১৯৫ ভিউ
সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ বান্ধব তালগাছ। গ্রাম বাংলার আনাচে কানাচে তালগাছের ডালে ডালে বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা ছিল। এতে অসংখ্য বাবুই পাখি বসবাস করত। দল বেঁধে উড়ন্ত বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত ছিল গ্রাম বাংলার জনপদ।

তাল পাতা দিয়ে ঘর ছাওয়া, হাতপাখা, তালপাতার চাটাই, মাদুর, , লেখবার পুঁথি, পুতুল ইত্যাদি বহুবিধ সামগ্রী তৈরি হয়। এমনকি তালের কাট দিয়ে বাড়ি, নৌকা, হাউস বোট ইত্যাদি তৈরি হয়। কিন্তু কালের আবর্তে গ্রামাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের এ তালগাছ, কিন্তু বর্তমানে নেই তাল গাছ, নেই বাবুই পাখি। বন খেকোদের হাতে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে তালগাছ।

আমাদের দেশের পরিবেশ বান্ধব এই তাল গাছ আজ বিলুপ্ত প্রায়।তালের ফল এবং বীজ দুই-ই বাঙালির জন্য সুস্বাধু খাদ্য। তাল গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে তা থেকে গুড়, পাটালি, মিছরি, ইত্যাদি তৈরি হয়। তালে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি, জিংক, পটাসিয়াম, আয়রন ও ক্যালসিয়ামসহ অনেক খনিজ উপাদান।

তাল গাছ প্রকৃতির বন্ধু ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষাকারী বৃক্ষ। এ গাছ প্রবল ঝড় বৃষ্টি ও আকাশের বিজলী থেকে মানুষ ও প্রাণী জগতকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। ফলে যেসব এলাকায় তাল গাছের সংখ্যা বেশি সেসব এলাকায় ঝড়ে ও বিজলীতে মানুষ ও পশু পাখির মৃত্যুর হার খুব কম।

প্রকৃতির জীব বৈচিত্র রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি অনেক স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন গুলি বাড়ির আঙিনার পাশে, রাস্তার ধারে ব্যাপকভাবে তাল গাছ রোপণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে নিজেকে ও এলাকাকে রক্ষার জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও তাল গাছ রোপণ করলে পরিবেশ আরও সৌন্দর্যসরুপ হতো।

এদিকে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার্থে জরুরি ভিত্তিতে তাল গাছ রোপণের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।
Seen by মেহেদী হাসান রিপন at 8:18 PM
মেহেদী হাসান রিপন

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
খুলনার কয়রা মসজিদকুঁড় প্রত্নতাত্ত্বিক দর্শনীয় মসজিদ শেখ খায়রুল ইসলাম পাইকগাছা খুলনা প্রতিনিধি :- মসজিদকুঁড় মসজিদ যেটি কয়রার আমাদি ইউনিয়নে অবস্থিত প্রত্নতাত্ত্বিক দর্শনীয় স্থান।মসজিদটির পাশ দিয়ে কপোতাক্ষ নদ খুব কাছেই রয়েছে সুন্দরবন।১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর মসজিদটি সম্পর্কে জানতে পারা যায়। মসজিদটিতে কোন লিপি না থাকাই এর নির্মাণ সময় সম্পর্কের সঠিক ধারণা নেই। মাটির নিচ খুঁড়ে মসজিদটি আবিষ্কৃত হয়েছে বলে একে মসজিদকুঁড় নামকরণ করা হয়। ধারণা করা হয়, খানজাহান আলীর শিষ্য বুড়া খান ও ফতেহ খান এই গ্রামে কাছারি করে এলাকা শাসন করতেন ১৪৫০-১৪৯০ সালের সময়কালে। তাঁরা এখানে একটি নয় গম্বুজ মসজিদ নির্মাণ করেন, নাম রাখেন মসজিদকুড়। ইট-সুরকির তৈরি মসজিদটি দক্ষিণ বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন প্রত্নসম্পদ৷
জনপ্রিয়
সর্বশেষ